হিপনিক জার্ক, ঘুমের মধ্যে শরীরে আচমকা ঝাঁকুনি!!

ঘুমের মধ্যে কি আপনার শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে? মনে হয় কেউ আপনাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিচ্ছে? কোনো উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাচ্ছেন? হয়তো একই সমস্যা আপনার মধ্যেও হচ্ছে। যার কারনে এই টপিকটা আপনি নিজেই খুজে বেড়াচ্ছেন। যদি আপনারও এমন সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে আপনি সঠিক যায়গায় এসেছেন। সর্বক্ষণের আজকের আর্টিকেলে আপনি ক্লিয়ার হয়ে যাবেন। –

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। কোনো কারণে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তখন এর প্রভাব পড়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে। যেমন – কর্মক্ষেত্রে ঘুম ঘুম ভাব, কাজে মন না বসা, ক্লান্ত লাগা, মাথা ব্যথা । এমনকি সবকিছু ধোয়াশা মনে হয়।

কেন আমাদের শরীর ঘুমের মধ্যে ঝাকুনি দেয়?

আমরা সারাদিন নানা ধরনের চিন্তার মধ্য দিয়ে পার করি। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও চিন্তা পিছু ছাড়ে না। আগেই বলেছি, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্রমে ব্যঘাত ঘটে। মস্তিষ্ক অবসাদ গ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং মাঝে মধ্যে ভুল বার্তা ও প্রেরণ করে। যখন আমরা (Subconscious Mind) বা অবচেতন মন এর মধ্যে থাকি। না চেতন, না অচেতন। আবার না ঘুম, না জাগ্রত অর্থাৎ তন্দ্রাচ্ছন্ন তখনই মূলত আমাদের শরীর এই ঝাকুনি দেয়। মনে হয় কেউ আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিচ্ছে। সিঁড়ি থেকে পড়ে যাচ্ছি অথবা কোনো উচু জায়গা থেকে পড়ে যাচ্ছি।
এটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হিপনিক জার্ক বলা হয়। এটা স্লিপ স্টার্ট, নাইট স্টার্ট, স্লিপ সুইচ, মায়োক্লিনিক জার্ক নামেও পরিচিত।

হিপনিক জার্কের কারণ!

ধারণা করা হয় এটি হ্যালোসিনেশন এর জন্য ও হতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, কোনো কারণে অতিরিক্ত ভয় পাওয়া, অনেক ক্লান্ত বোধ করা এই গুলোর জন্য ও হিপনিক জার্ক হতে পারে। অসুস্থতার জন্যও মায়োক্লিনিক জার্ক হতে পারে। এছাড়াও নার্কোলেপ্সির ( Neurological Disorder) – যেটা ঘুম জাগরণ নিয়ত্রণ চক্রতে ব্যাঘাত ঘটায়। মস্তিষ্কের ঘুম জাগরণ চক্র নিয়ন্ত্রণ করে (হাইপোথ্যালামাস) কারণেও স্লিপ সুইচ হতে পারে।

হিপনিক জার্ক হলে অনেক সময় হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়, শ্বাস – প্রশ্বাস বেড়ে যায়, গা ঘেমে যায়। এতে হার্ট অ্যাটাক ও হতে পারে।

হিপনিক জার্ক প্রতিকার।

হিপনিক জার্ক নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। লাইফ স্টাইল মোডিফেশন এর মাধ্যমে এটা প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেমন – প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠা, কেউ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকলে তার ঘুমের মধ্যে বার বার ব্যঘাত না ঘটানো। কাউকে ঘুমের মধ্যে আচমকা না ডাকা এতে করে সে অতিরিক্ত ভয় পেতে পারে, মস্তিষ্কে চাপ পড়ে। এমনকি স্ট্রোক ও হতে পারে! অতিরিক্ত কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় খাদ্য পরিহার করা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ না নেওয়া, উচ্চ রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে যে খাদ্য সেগুলো অতিরিক্ত না খাওয়া, সুষম খাবার খাওয়া । কারণ আমরা জানি অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই। –
ভালো সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন, শারীরিক ও মানসিকভাবে ঠিক থাকুন এবং আপনি সুখী থাকুন।

You May Also Like

আনছের আলী

About the Author: আনছের আলী

ছোটবেলা থেকেই আগ্রহ প্রযুক্তির উপর। আর এই আগ্রহ থেকেই জাগ্রত হয়েছে প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার এবং জানানোর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

+ 60 = 68
Powered by MathCaptcha

error: Content is protected !!